সপ্তাহে একবার হিজামা করা কি নিরাপদ? নিয়মিত হিজামার দৃষ্টিভঙ্গি

হিজামা থেরাপি বা কাপিং থেরাপি শুধুমাত্র একটি প্রাচীন চিকিৎসা নয়, বরং এটি ইসলামের এক সুন্নাহভিত্তিক উপকারি পদ্ধতি। শরীরের দূষিত রক্ত বের করে দিয়ে, নতুন রক্তসঞ্চালন জাগিয়ে তোলার মাধ্যমে হিজামা শরীর ও আত্মা – দুইয়েরই প্রশান্তি আনে।

তবে অনেকেই একটি প্রশ্ন করেন –
“আমি কি সপ্তাহে একবার হিজামা করতে পারি?”
“নিয়মিত হিজামা করলে শরীরে কোনো ক্ষতি হবে কি?”

চলুন ইসলামী দৃষ্টিকোণ ও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে বিষয়টি জেনে নেই।

হিজামা ফ্রিকোয়েন্সি – কোন ক্ষেত্রে কতবার?

হিজামা এমন একটি পদ্ধতি, যা শরীরের গঠন, বয়স, রোগের ধরন এবং জীবনধারার ওপর নির্ভর করে করা উচিত। সব মানুষের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।

ইসলামী ইতিহাসে দেখা যায়, নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজে চন্দ্র মাসের ১৭, ১৯ ও ২১ তারিখে হিজামা করতেন। এই দিনগুলোকে অনেকেই “আশহুরে হিজামা” বলে থাকেন।
এই দিনগুলোতে হিজামা করলে শরীরের ক্ষতিকর রক্ত সহজে বের হয় এবং শরীর ভারসাম্যে ফিরে আসে – এমনটি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।

তবে, এটি মানে এই নয় যে সপ্তাহে একবার বা নিয়মিত করলে ক্ষতি হবে।
মূল বিষয় হলো, শরীরের প্রয়োজন ও অবস্থার ওপর ভিত্তি করে ফ্রিকোয়েন্সি নির্ধারণ করা।

সাধারণ দিকনির্দেশনা:

১) সুস্থ মানুষ:
যাদের কোনো নির্দিষ্ট অসুস্থতা নেই, তারা ৩ থেকে ৪ মাস পরপর একবার হিজামা করতে পারেন। এটি শরীরের বিষাক্ত উপাদান বা টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

২) দীর্ঘস্থায়ী রোগী (যেমন ব্যথা, মাইগ্রেন, ডায়াবেটিস ইত্যাদি):
এদের ক্ষেত্রে ১ থেকে ২ মাস অন্তর হিজামা করলে উপকার পাওয়া যায়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শে করাই নিরাপদ।

৩️) তীব্র সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি (যেমন হরমোনাল বা ক্রনিক ইনফ্লামেশন):
প্রথম কয়েক সেশন ১৫–২০ দিনের ব্যবধানে করা যেতে পারে, এরপর ধীরে ধীরে ব্যবধান বাড়ানো হয়।

৪️) সপ্তাহে একবার হিজামা:
এটি সাধারণ অবস্থায় প্রয়োজন নেই এবং অনেক সময় অতিরিক্ত হতে পারে। কারণ শরীরের প্রতিটি কাপিং সেশনের পর টিস্যু ও রক্তসঞ্চালন পুনরুদ্ধারে সময় লাগে।
তবে গুরুতর শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে, চিকিৎসকের অনুমতি থাকলে সীমিত সময়ের জন্য সপ্তাহে একবার হিজামা করা যেতে পারে।


মেডিকেল সুপারিশ

চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে হিজামার পর শরীরে টিস্যু ও রক্তনালী পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা সম্পূর্ণ হতে সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিন লাগে। তাই এই সময়ের মধ্যে নতুন হিজামা করা শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলতে পারে।

আধুনিক বিশেষজ্ঞদের মত:

  • হিজামার মধ্যবর্তী সময় কমপক্ষে দুই সপ্তাহ রাখা উত্তম।
  • খুব ঘনঘন করলে ত্বকে রক্তজমাট ও ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
  • শরীরকে পর্যাপ্ত পানি, বিশ্রাম ও পুষ্টিকর খাদ্য দিন – এটি রিকভারি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে।

চিকিৎসা বা থেরাপি যতই সুন্নাহভিত্তিক হোক না কেন, অতিরিক্ত প্রয়োগ কখনও উত্তম নয়। হিজামা আল্লাহর রহমতের একটি উপায়, কিন্তু সঠিক পরিমাণে ও সঠিক পদ্ধতিতেই তার বরকত পাওয়া যায়।

ইসলামী ভারসাম্যের দৃষ্টিতে

ইসলাম আমাদের সব কাজে মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে শিখিয়েছে। 

নবী করিম (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন যে, কোনো কিছুতেই বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়, কারণ অতিরিক্ততা শেষ পর্যন্ত ধ্বংস ডেকে আনে। তাই হিজামার ক্ষেত্রেও মধ্যপন্থাই উত্তম।

শেষ কথা, হিজামা একটি বরকতময় ও প্রমাণিত চিকিৎসা পদ্ধতি। এটি সাধারণত সপ্তাহে একবার করার প্রয়োজন নেই, বরং শরীরের প্রয়োজন ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করাই সর্বোত্তম।

রাসূল (সাঃ)- এর নির্দিশিত চিকিৎসা পদ্ধিতির আলোকে জিন, জাদু, বদনজর, হাসাদ জনিত সমস্যা এবং সকল প্রকার শারীরিক – মানষিক রোগের চিকিৎসা করা হয়।