শরীয়তভিত্তিক রুকাইয়াহ: কুরআন ও সুন্নাহর আলোয় প্রকৃত আত্মিক নিরাময়

আজকের যুগে “রুকাইয়াহ” শব্দটি অনেকের কাছে পরিচিত হলেও, এর প্রকৃত অর্থ ও শরীয়াহসম্মত পদ্ধতি সম্পর্কে ভুল ধারণা রয়ে গেছে। কেউ একে ঝাড়ফুঁক বলে মনে করেন, কেউ আবার এমন কাজ করেন যা শরীয়াহর পরিপন্থী। কিন্তু বাস্তবে, রুকাইয়াহ এমন এক আত্মিক চিকিৎসা, যা নবীজী ﷺ নিজে করেছেন, সাহাবাগণ করেছেন এবং আমাদেরকেও তা করতে উৎসাহ দিয়েছেন –
শর্ত একটাই: রুকাইয়াহ যেন শরীয়াহসম্মত ও শিরকমুক্ত হয়।

শরীয়তের আলোকে রুকইয়া

“রুকাইয়াহ” শব্দের অর্থ দোয়া বা কুরআনের আয়াত পাঠের মাধ্যমে নিরাময় চাওয়া।
ইসলামে এটি একটি বৈধ চিকিৎসা, যদি তা শুধুমাত্র আল্লাহর নামে, শরীয়াহ অনুযায়ী পরিচালিত হয়।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “তোমরা রুকাইয়াহ কর, তবে শিরকের কিছু যেন না থাকে।”
(সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২০০) 

এ হাদীস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, রুকাইয়াহ বৈধ, যদি তা আল্লাহর বাণী ও দোয়ার মাধ্যমে হয়।

আরেকটি হাদীসে সহীহভাবে বর্ণিত – “আমি তোমাদের রুকাইয়াহ করতে নিষেধ করেছিলাম, কিন্তু এখন তোমরা রুকাইয়াহ করতে পারো, যদি তাতে শিরক না থাকে।” (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২০২)

অতএব, শরীয়তভিত্তিক রুকাইয়াহ মানে হলো এমন চিকিৎসা যেখানে:
১) কুরআনের আয়াত ও সহীহ দোয়া ব্যবহার হয়,
২) তাতে কোনো মন্ত্র, তাবিজ বা অদ্ভুত কৌশল নেই,
৩) উদ্দেশ্য কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নিরাময়।

রুকাইয়াহ শারইয়াহ শুধু রোগের চিকিৎসা নয়, এটি আত্মার প্রশান্তি, ঈমানের দৃঢ়তা ও আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুলের শিক্ষা।

বেদআত ও ভুল পদ্ধতির বিপদ

আজকের সমাজে অনেকেই “রুকইয়া” নাম ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। কেউ “তাবিজ” দেয়, কেউ “ঝাড়ফুঁক” করে, কেউ “জাদু কাটা”র নামে শিরকমূলক কাজ করে। এগুলো শুধু ভুল নয় বরং শিরক ও গুনাহের কাজ।

রাসূলুল্লাহ ﷺ সতর্ক করে বলেছেন: “যে ব্যক্তি তাবিজ ঝুলায়, সে শিরকে লিপ্ত হয়।”
(সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২১১১ )

ভুল পদ্ধতির লক্ষণ:
১) “গোপন দোয়া” বা নাম ব্যবহার
২) তাবিজ, কালি বা ধোঁয়া দেওয়া
৩) রোগীকে ভয় দেখানো বা অর্থ আদায়
৪) কুরআনের বদলে অজানা মন্ত্র ব্যবহার

এসব বেদআতি কাজের ফল হলো আত্মিক দুর্বলতা, শয়তানের প্রভাব ও ঈমানের ক্ষতি।

আল্লাহ তায়ালা বলেন –“আর যে আল্লাহর পরিবর্তে অন্যকে সাহায্যের জন্য ডাকে, তার কোনো প্রমাণ    নেই; এমন লোকেরা শিরক করছে।”  (সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত ১১৭)

তাই রুকাইয়াহ করতে চাইলে প্রথম শর্ত হলো: রুকইয়া হতে হবে শরীয়াহসম্মত, শিরকমুক্ত ও কুরআনের আলোয় পরিচালিত।

Soul Healing-এর সহীহ ইসলামিক গাইড

Soul Healing BD-এর রুকইয়া সেবা পুরোপুরি কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।
আমাদের লক্ষ্য কোনো অতিপ্রাকৃত আশ্চর্য দেখানো নয় বরং মানুষকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেওয়া এবং তাঁর বাণীতে নিরাময় খুঁজে দেওয়া।

আমাদের শরীয়াহসঙ্গত নীতিমালা:

শিরকমুক্ত রুকাইয়াহ: শুধুমাত্র কুরআনের আয়াত ও সহীহ দোয়া দ্বারা চিকিৎসা করা হয়।

তাবিজ, মন্ত্র বা ধোঁয়া নয়: এগুলো শিরকের উপকরণ, যা ইসলাম সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করেছে।

গোপনীয়তা ও সম্মান: প্রতিটি রোগীর তথ্য গোপন রাখা হয়, যেন কেউ লজ্জা বা ভয় অনুভব না করেন।

আত্মিক শিক্ষা: সেশনের সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে শেখানো হয় কীভাবে নিজেও রুকাইয়াহ ও দোয়া চালিয়ে যেতে পারেন।

বিশ্বাস ও তাওয়াক্কুল: নিরাময় আল্লাহর হাতে, আমরা কেবল মাধ্যম মাত্র।

“এবং তোমার প্রভুর বাণীই সর্বোত্তম সত্য ও ন্যায়সঙ্গত।”
(সূরা আল-আনআম: আয়াত ১১৫)

FAQ: শরীয়তভিত্তিক রুকইয়া

প্রশ্ন ১: শরীয়তভিত্তিক রুকাইয়াহ কীভাবে করব?
উত্তর: ওযু করে শান্তভাবে বসুন, কিবলামুখী হয়ে কুরআনের আয়াত ও দোয়া পড়ুন এবং আল্লাহর কাছে শেফা চান। প্রয়োজনে প্রশিক্ষিত রুকইয়া প্র্যাকটিশনারের সহায়তা নিতে পারেন।

প্রশ্ন ২: তাবিজ বা ঝাড়ফুঁক কি ইসলামিক রুকাইয়াহ?
উত্তর: না। এগুলো ইসলামসম্মত নয়। তাবিজ বা মন্ত্রের ব্যবহার রাসূলুল্লাহ ﷺ নিষিদ্ধ করেছেন।

প্রশ্ন ৩: অনলাইন রুকাইয়াহ কি বৈধ?

উত্তর: হ্যাঁ, যদি তা সহীহ আয়াত ও দোয়া দ্বারা হয় এবং প্রশিক্ষিত রুকাইয়াহ এক্সপার্ট পরিচালনা করেন। আল্লাহর বাণী দূর থেকেও প্রভাব ফেলে ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্ন ৪: শরীয়াহসম্মত রুকাইয়াহ করলে কি ফল পাওয়া যায়?
উত্তর: অবশ্যই। কুরআনের আয়াতে রয়েছে শেফা (আরোগ্য)। নিয়মিত রুকইয়া করলে মন শান্ত হয়, ভয় কমে, ও আত্মা আল্লাহর দিকে ঝুঁকে যায়।

প্রশ্ন ৫: রুকাইয়াহ কি যাদুর মতো কোনো প্রভাব সৃষ্টি করে?
উত্তর: না। রুকাইয়াহ যাদু নয়; এটি আল্লাহর কিতাবের তেলাওয়াত, যা মানুষের আত্মাকে শুদ্ধ করে ও শয়তানের প্রভাব থেকে রক্ষা করে।

শেষকথা, শরীয়তভিত্তিক রুকাইয়াহ মানে কুরআনের আলোয় আল্লাহর কাছে চিকিৎসা চাওয়া। এটি কোনো গোপন রহস্য নয়; এটি এক বিশ্বাসের পথ, যেখানে মন শান্ত হয়, আত্মা প্রশান্ত হয়, আর ঈমান দৃঢ় হয়। রুকাইয়াহ তখনই ফলপ্রসূ হয়, যখন তা আল্লাহর নামের ওপর নির্ভরশীল এবং শিরকমুক্ত থাকে।

রাসূল (সাঃ)- এর নির্দিশিত চিকিৎসা পদ্ধিতির আলোকে জিন, জাদু, বদনজর, হাসাদ জনিত সমস্যা এবং সকল প্রকার শারীরিক – মানষিক রোগের চিকিৎসা করা হয়।