সর্দি-কাশি বা হালকা ঠান্ডা – অনেকের কাছেই এটি এক নিয়মিত ঝামেলা। আবহাওয়া পরিবর্তন, ধুলোবালি, ঘুমের অভাব, এমনকি মানসিক চাপও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়। যখন ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়, তখন ভাইরাস সহজেই শরীরে আক্রমণ করে।
এই জায়গায় হিজামা থেরাপি শুধু শরীরের ক্লান্তি দূর করে না, বরং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউনিটি) বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে হিজামার ভূমিকা
হিজামা মূলত শরীরের রক্তপ্রবাহ ও লসিকা সঞ্চালন (lymphatic circulation) সক্রিয় করে। এর মাধ্যমে শরীর থেকে টক্সিন বের হয়, রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়ে আর কোষগুলো নতুনভাবে কাজ করতে শুরু করে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত হিজামা থেরাপি শরীরে শ্বেত রক্তকণিকা (white blood cells) বাড়াতে সাহায্য করে, যা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে।
চলুন দেখি হিজামা কীভাবে ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে–
১. রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে
হিজামা করার ফলে শরীরের রক্তপ্রবাহ সক্রিয় হয়। অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান দ্রুত কোষে পৌঁছে যায়, যা ইমিউন কোষগুলোকে কার্যকরভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।
২. টক্সিন ও বর্জ্য পদার্থ দূর করে
আমাদের শরীরে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছু টক্সিন ও দূষিত রক্ত জমে যায়, যা শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিতে পারে। হিজামা থেরাপি এই জমে থাকা বর্জ্য ও ক্ষতিকর পদার্থ বের করে শরীরকে ভেতর থেকে পরিশুদ্ধ করতে সাহায্য করে।
ফলে রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয়, প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়, এবং শরীর সংক্রমণ বা রোগের বিরুদ্ধে আরও কার্যকরভাবে লড়াই করতে পারে।
৩. হরমোন ও এনার্জি ভারসাম্য বজায় রাখে
চিকিৎসকরা বলেন, হিজামা করালে শরীরে এন্ডরফিন ও সেরোটোনিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মানসিক প্রশান্তি দেয়। এই প্রশান্তি স্ট্রেস হরমোন কমায় আর স্ট্রেস কমলে ইমিউন সিস্টেম স্বাভাবিকভাবে শক্তিশালী হয়।
৪. লিম্ফ সিস্টেম সক্রিয় করে
আমাদের শরীরের লিম্ফ নোডগুলো প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রধান অংশ। হিজামা থেরাপি লিম্ফ প্রবাহকে সক্রিয় করে, যা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া দূরীকরণে সাহায্য করে।
৫. প্রাকৃতিক ডিটক্স প্রক্রিয়া
হিজামা একটি প্রাকৃতিক ডিটক্সিফিকেশন থেরাপি। এটি রক্তে জমে থাকা ক্ষতিকর উপাদান বের করে দেয়, ফলে শরীর হালকা হয় এবং ইমিউন সিস্টেম নতুনভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে।
ইসলামিক দৃষ্টিতে প্রতিরোধ ক্ষমতা
নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন – “আল্লাহ এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি, যার প্রতিকার তিনি দেননি।” (সহিহ বুখারি)
হিজামা সেই প্রতিকারেরই একটি মাধ্যম। ইসলামী চিকিৎসার দৃষ্টিতে এটি শুধু রোগ সারায় না, বরং শরীরকে এমন অবস্থায় আনে যাতে রোগ সহজে আক্রমণ করতে না পারে।
বাস্তব ফলাফল
নিয়মিত হিজামা নেওয়া অনেকেই জানান যে, আগের মতো ঘন ঘন সর্দি-কাশি হয় না। বিশেষ করে যাদের ঠান্ডা লাগা, গলা ব্যথা বা সাইনোসাইটিসের প্রবণতা ছিল – তারা বলেন, হিজামার পর এসব সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
একজন ৩৫ বছর বয়সী রোগী বলেন – “আমি আগে প্রতি মাসেই ঠান্ডা-কাশিতে ভুগতাম। হিজামা শুরু করার পর থেকে এক বছরের মধ্যে একবারও অসুস্থ হইনি, আলহামদুলিল্লাহ।”
এমন অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, হিজামা শরীরের প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে জাগিয়ে তুলতে সক্ষম।
শেষ কথা, সর্দি-কাশি প্রতিরোধে ও শরীরের ইমিউনিটি বাড়াতে হিজামা একটি চমৎকার ইসলামিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। এটি শুধু শরীরের ভেতরের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে না, বরং আত্মারও প্রশান্তি ফিরিয়ে আনে।
মনে রাখবেন- “হিজামা শুধু একটি চিকিৎসা নয়, এটি সুন্নাহর আলোয় শরীর ও আত্মার এক পুনর্জাগরণ।”